• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

দুই মাসের মধ্যে সোনা আমদানি

নিজস্ব প্রতিবেদক১০:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৮

সোনা আমদানি শুরু হতে যাচ্ছে দুই মাসের মধ্যেই। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকেই এই আমদানি শুরু হবে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সোনা নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। শিগগিরই সোনা আমদানির বিষয়ে গেজেট প্রকাশিত হবে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি গঙ্গাচরণ মালাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গঙ্গাচরণ মালাকার বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে সোনা আমদানি শুরু হবে। জাতীয় নির্বাচনের পরই আমরা সোনা আমদানি করতে পারবো।’

উল্লেখ্য, ৩ অক্টোবর সোনা নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। অবশ্য সোনা ব্যবসায়ীরা গত ৪৭ বছর ধরে সোনা আমদানির নীতিমালা চেয়ে আসছিলেন।

জানা গেছে, সরকার সোনা খাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি বছর ভ্যাট-ট্যাক্স নিলেও স্বর্ণের বৈধ উৎস নেই। চাহিদার সিংহভাগই এসেছে চোরাচালানের সোনা থেকে।

এদিকে, বাংলাদেশে স্বর্ণের বাজারের আরও উন্নয়ন চায় সরকার। এ জন্য সোনা আমদানি ও রফতানিতে কী পরিমাণ মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) আরোপ যুক্তিযুক্ত হবে, তা নির্ধারণে বাণিজ্য সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্যও রয়েছেন। দেশে থাকা অবৈধ সব স্বর্ণকে মূল ধারায় নিয়ে আসতে কী পরিমাণ অর্থ ভ্যাট হিসেবে আদায় করা যায়, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে এই কমিটি।

সোনা আমদানিতে ভরিপ্রতি ১ হাজার টাকা ভ্যাট আরোপ করতে চান অর্থমন্ত্রী। কিন্তু ভ্যাটের পরিমাণ আরও কমানোর আবেদন করেছে বাজুস। এ প্রসঙ্গে গঙ্গাচরণ মালাকার বলেন, ‘আমদানিকৃত সোনা দিয়ে যেন আমরা ব্যবসা করতে পারি, সে জন্য ভ্যাটের পরিমাণ কমানোর প্রয়োজনীয়তা আছে।’

সোনা আমদানির ওপর ২০১১ সালে প্রতি আউন্সে (২৮ দশমিক ২৫ গ্রাম) ৩ হাজার টাকা ভ্যাট আরোপ করা হয়। কিন্তু নতুন ভ্যাট হার আরোপের পর কোনও সোনা আইনগতভাবে দেশে আসেনি।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার আগারওয়ালা বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনও ব্যবসায়ী একতোলা স্বর্ণও আমদানি করেননি।’ তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ৪৮ বছর ধরে আমরা বৈধতা চাচ্ছি।’

অবশ্য বাজুস সভাপতি গঙ্গাচরণ মালাকার বলেন, ‘ব্যাগেজ রুলসের আওতায় কিছু সোনা বাইরে থেকে আসে। বাকিটা দেশের ভেতরে থাকা পুরনো সোনা দিয়েই সামাল দিতে হয়।’

যদিও আমদানি নীতি আদেশ ২০০৯-২০১২-এর ২৫(২৩) উপ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৪৭’-এর ধারা-৭-এর শর্তপূরণ সাপেক্ষে সোনা ও রৌপ্য আমদানি করা যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি লাগে। এছাড়া এনবিআরের ব্যাগেজ রুলসের আওতায় ১০০ গ্রাম সোনা বিনাশুল্কে এবং ২৩৪ গ্রাম স্বর্ণবার বা স্বর্ণপিণ্ড প্রতি ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে তিন হাজার টাকা শুল্ক পরিশোধ করে আনতে পারেন যাত্রীরা। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন, উচ্চ শুল্কসহ নানা জটিলতার অজুহাত তুলে ব্যবসায়ীরা বৈধপথে সোনা আমদানিতে আগ্রহ দেখাননি। এতে চোরাই পথে আসা স্বর্ণেই মিটছে দেশের সিংহভাগ চাহিদা।

বেসরকারি এক সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতিবছর দেশে ৩০ থেকে ৪০ টন স্বর্ণের চাহিদা রয়েছে। অথচ এই পরিমাণ সোনা কোথা থেকে আসছে এবং কারা এর জোগান দিচ্ছেন, তার সবই থাকছে অস্বচ্ছ। বিক্রয়যোগ্য, প্রদর্শিত কিংবা ব্যবসায়ীদের সংরক্ষণে থাকা বেশিরভাগ মজুদ সোনা ও স্বর্ণালংকারের নিবন্ধনও নেই।

জানা গেছে, যেসব সোনা ব্যবসায়ী ভ্যাট না দিয়ে সোনা স্টক করে রেখেছে তাদের সোনা বৈধ করার জন্য ভরিপ্রতি ১ হাজার টাকা করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া যাবে। অবশ্য বাজুস এই হার ৩০০ টাকা করার জন্য আবেদন করে রেখেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, ট্যারিফ কমিশন ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক তদন্ত প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে, বৈধ উপায়ে কোনও সোনা আমদানি হয় না। দুবাই, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশ থেকে একশ্রেণির চোরাকারবারির সহায়তায় সোনা এনে তা দেশের বাজারে বেচা হচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, ১৯৪৭ সালে সোনা আমদানিযোগ্য পণ্য ছিল। তখনও সোনা আমদানি করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি লাগতো। কিন্তু তখন পুরো প্রক্রিয়া সহজ ছিল। ১৯৭১ সালের আগে দুজন ডিলারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক সোনা আমদানি করতো এবং পরে সোনা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতো। স্বাধীনতার পর এটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে ১৯৭১ সাল থেকে প্রবাসী কোটায় ব্যাগেজ রুলের আওতায় বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকেই বিমানবন্দরে ঘোষণা দিয়ে ১০ কেজি পর্যন্ত সোনা আনতে পারতো। ১৯৯৬ সালে এটা কমিয়ে পাঁচ কেজি পর্যন্ত আনার সুযোগ দেওয়া হয়। ২০০০ সালে এটা আরও কমিয়ে দুই কেজি পর্যন্ত করা হয়।

সোনা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রতি কেজি সোনা আনতে ট্যারিফ হিসাবে সাড়ে ১২ হাজার টাকা সরকারকে দিতে হতো। কিন্তু ১৫-১৬ অর্থবছর থেকে প্রতি কেজিতে সরকারকে দিতে হয় তিন লাখ টাকা। কিন্তু যেদিন থেকে ট্যারিফ তিন লাখ টাকা করা হয়, সেদিন থেকে সরকার এই খাতে এক টাকাও পায় না। যদিও সোনা ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার সোনা স্টক করে রেখেছেন।

জুয়েলার্স সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশে সোনা ব্যবসায়ীর সংখ্যা এক লাখ ২৮ হাজারের কাছাকাছি। এরমধ্যে ঢাকা শহরে স্বর্ণালঙ্কার ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১০ হাজারের মতো। এসব দোকানে নিয়মিত তৈরি হচ্ছে হরেক রকমের গয়না। এসব গয়নার দোকানে কাজও করছেন কারিগরসহ দেড় লাখের বেশি শ্রমিক।

লাইভ

rss goolge-plus twitter facebook
Design & Developed By:

প্রকাশক : গোলাম মাওলা শান্ত
মোবাইলঃ ০১৭১৪৭৮৫০১৭, ০১৭১১৫৭৪৪১৫
অফিসঃ ৩৮৩/২/এ, বনশ্রী রোড, পশ্চিম রামপুরা, রামপুরা, ঢাকা-১২১৭

ই-মেইল: jugerbarta.news@gmail.com,

সম্পাদক:  এ্যাড. কাওসার হোসাইন
নির্বাহী সম্পাদক: খান মাইনউদ্দিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: তানজিল হাসান খান
বার্তা সম্পাদক: এইচ.এম বশির

টপ